অবিরাম স্ক্রিন ব্যবহারের যুগে চোখের স্বস্তিতে নতুন প্রযুক্তির ছোঁয়া

নিউজ ডেক্স

প্রকাশ: ২০:৪৩, ২০ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ২০:৪৫, ২০ জুলাই ২০২৬

অবিরাম স্ক্রিন ব্যবহারের যুগে চোখের স্বস্তিতে নতুন প্রযুক্তির ছোঁয়া

ছবি সংগৃহীত

স্মার্টফোন এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অফিসের ই-মেইল, অনলাইন ক্লাস, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও স্ট্রিমিং কিংবা গেমিং—দিনের বড় একটি সময়ই কাটে মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে। ফলে দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহারের কারণে চোখের ক্লান্তি, অস্বস্তি এবং ডিজিটাল ফ্যাটিগের মতো সমস্যাও বেড়ে চলেছে।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় ডিসপ্লের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে চোখের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। এর অন্যতম কারণ হলো ডিসপ্লের সূক্ষ্ম ফ্লিকারিং (Flickering) বা ঝিলমিলানি, যা খালি চোখে ধরা না পড়লেও দীর্ঘ সময় ব্যবহারের ক্ষেত্রে চোখে অস্বস্তি, মাথাব্যথা এবং ক্লান্তির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে কম উজ্জ্বলতায় বা অন্ধকার পরিবেশে ফোন ব্যবহারের সময় এই সমস্যা আরও প্রকট হয়।

এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্মার্টফোন নির্মাতারা এখন উচ্চ-ফ্রিকোয়েন্সির পিডব্লিউএম (PWM) ডিমিং প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। এই প্রযুক্তি ডিসপ্লের উজ্জ্বলতা নিয়ন্ত্রণের সময় ফ্লিকারিং কমিয়ে দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে তুলনামূলকভাবে আরামদায়ক করে তোলে।

এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে ইনফিনিক্স নোট ৬০ প্রো স্মার্টফোনেও। ডিভাইসটিতে রয়েছে ২৩০৪ হার্টজ PWM ডিমিং প্রযুক্তি, যা ডিসপ্লের সূক্ষ্ম ঝিলমিলানি কমাতে সহায়তা করে। ফলে দীর্ঘ সময় পড়াশোনা, ভিডিও দেখা, ওয়েব ব্রাউজিং কিংবা রাতে ফোন ব্যবহারের সময় চোখে তুলনামূলক কম চাপ অনুভূত হতে পারে।

এ ছাড়া স্মার্টফোনটিতে রয়েছে মোশন সিকনেস রিলিফ ফিচার। চলন্ত বাস, ট্রেন বা গাড়িতে ফোন ব্যবহার করার সময় অনেকের চোখে অস্বস্তি বা মাথা ঘোরার অনুভূতি তৈরি হয়। এই ফিচারটি স্ক্রিনে কনটেন্ট প্রদর্শনকে আরও স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে, যা যাত্রাপথে ফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, স্মার্টফোন শিল্পে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত। আগে যেখানে প্রতিযোগিতা সীমাবদ্ধ ছিল প্রসেসর, ক্যামেরা বা ডিসপ্লের উজ্জ্বলতাকে ঘিরে, এখন নির্মাতারা ব্যবহারকারীর দীর্ঘমেয়াদি স্বস্তি ও সুস্থতার বিষয়েও সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন। কারণ প্রযুক্তি যত বেশি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠছে, ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে সেটি ব্যবহারের আরাম ও স্বাস্থ্যগত প্রভাব।

সে বিবেচনায় ইনফিনিক্স নোট ৬০ প্রো-এর হাই-ফ্রিকোয়েন্সি PWM ডিমিং ও মোশন সিকনেস রিলিফের মতো প্রযুক্তিগুলো কেবল নতুন ফিচার নয়; বরং ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন অভিজ্ঞতাকে আরও আরামদায়ক ও স্বস্তিদায়ক করে তোলার একটি প্রচেষ্টা। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ভবিষ্যতে স্মার্টফোনের ডিসপ্লে উন্নয়নের ক্ষেত্রে শুধু আরও উজ্জ্বল বা তীক্ষ্ণ স্ক্রিন নয়, বরং চোখের সুরক্ষা ও দীর্ঘ সময় আরামদায়ক ব্যবহারের উপযোগী প্রযুক্তিই হয়ে উঠবে অন্যতম প্রধান বিবেচ্য বিষয়।

Sara

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন