জমকালো আয়োজনে যাত্রা শুরু করল বিশ্বমানের ‘বসুন্ধরা সুপার গলফ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০১:১৯, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জমকালো আয়োজনে যাত্রা শুরু করল বিশ্বমানের ‘বসুন্ধরা সুপার গলফ

ছবি সংগৃহীত

আলো ঝলমলে সন্ধ্যায় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় খুলে গেল প্রচলিত ধারার বাইরে গলফ বিনোদনের নতুন এক দুয়ার। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জমকালো আয়োজনে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে পাঁচতারা মানের ‘বসুন্ধরা সুপার গলফ’।

নেই চেনা ড্রাইভিং রেজু, নেই প্রথাগত গলফ কোর্স। এর বদলে আছে প্রযুক্তিনির্ভর ‘বে এরিয়া’ আর অত্যাধুনিক গলফ সিম্যুলেটর। সেই সঙ্গে খাবার, বিনোদন, আড্ডা এবং সামাজিক আয়োজনেরও কমতি নেই কোনো। গলফের সঙ্গে জীবনযাপনের নানা অনুষঙ্গ মিলিয়ে এক ছাদের নিচে তৈরি হয়েছে নতুন এই ক্রীড়া বিনোদন জগৎ।

আমেরিকান বিখ্যাত ‘টপগলফ’-এর আদলেই সুপার গলফের নকশা সাজানো। সেই সুপার গলফের শুভ উদ্বোধন করেন সানভীর বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমিল আহমেদ সোবহান এবং তানভীর বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ ইব্রাহিম সোবহান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান এবং সানভীর বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান সাফিয়াত সোবহান সানভীর।

সুপার গলফের স্বপ্ন দেখা এমিল আহমেদ সোবহান বলেন, “আজ আপনাদের প্রত্যেকের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারা আমার জন্য অসাধারণ আনন্দের।

ঢাকা, বাংলাদেশ ও বসুন্ধরার জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়। এই মুহূর্তের অংশ হতে পেরে আমি একই সঙ্গে সম্মানিত ও উচ্ছ্বসিত। গত কয়েক বছর বাংলাদেশ বেশ কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গেছে। সেই সময়ের মধ্য দিয়ে এসেছে অগ্রগতি, আমরা শিখেছি অনেক কিছু, আর অনিবার্যভাবেই এসেছে পরিবর্তন। বসুন্ধরা সুপার গলফ সেই পরিবর্তনেরই একটি অংশ।

ঢাকার বিনোদনের জগৎকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করাই এর লক্ষ্য। যখন প্রথম এই প্রকল্প নিয়ে কাজ শুরু করি, নিজেকেই প্রশ্ন করেছিলাম, ‘সব সময় যেভাবে কাজ করা হয়েছে, তার চেয়ে ভিন্নভাবে যদি আমরা কিছু করি? এমন একটি জায়গা যদি তৈরি করি, যেখানে মানুষ আনন্দ নিয়ে আসবে, যেখানে কর্মীদের ন্যায্যতাও সম্মানের সঙ্গে দেখা হবে এবং প্রতিবারই আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করব?’ দুই শতাধিক কর্মী এবং অসংখ্য রাত জেগে কাজ করার পর আজ আমি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি, আমরা সেটা করে দেখিয়েছি। বসুন্ধরা সুপার গলফ ঢাকার বিনোদনজগতে নতুন এক পরিবর্তনের সূচনা করছে। শেষ করার আগে সর্বকালের অন্যতম সেরা গলফার ববি জোন্সের একটি কথা মনে করিয়ে দিতে চাই, গলফ আমাদের জীবনের সবচেয়ে কাছাকাছি খেলা। খারাপ শট থেকেও কখনো ভালো সুযোগ আসে, আবার ভালো সুযোগ থেকেও খারাপ শট হতে পারে। কিন্তু যা-ই ঘটুক না কেন, বল যেখানে আছে, সেখান থেকেই খেলতে হবে। তাই আর কথা নয়, চলুন সুপারগলফ খেলি।”

 

সুপার গলফ নিয়ে আহমেদ ইব্রাহিম সোবহান বলেন, ‘আজ আমরা বসুন্ধরা সুপার গলফের যাত্রা শুরু করছি। এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য পুরো দলকে এবং আমার ভাই, সানভীর বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমিল আহমেদ সোবহানকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। তবে আজ আমি শুধু সুপার গলফ নিয়ে কথা বলতে চাই না। আমি বলতে চাই, বসুন্ধরা এবং বাংলাদেশের জন্য এটি কী প্রতিনিধিত্ব করে। দশকের পর দশক বাংলাদেশ তার শ্রম ও শক্তি দিয়ে গড়ে উঠেছে। ২০ কোটি মানুষ, ৪০ কোটি হাত-কারখানা, সড়ক ও আবাসন তৈরি করেছে। এই অগ্রগতি নিয়ে আমাদের সবারই গর্ব করা উচিত।’ 

বিভিন্ন খাতে বসুন্ধরা গ্রুপের অবদান নিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের মানুষ এমন একটি জায়গা পাওয়ার অধিকার রাখে, যা আমরা সম্মিলিতভাবে গড়ে তুলছি। এখানেই বসুন্ধরা গ্রুপ বিপুল সম্ভাবনা দেখছে এবং আমরা তা বাস্তবায়নে প্রস্তুত। আগামী ২০ বছরে আমরা বিনোদন, খেলাধুলা, অবসর বিনোদন ও পর্যটন খাতে গুরুত্বসহকারে বিনিয়োগ ও উন্নয়ন করার অঙ্গীকার করছি। স্পোর্টস সিটি, সেন্ট্রাল পার্ক, রিভার সিটি এবং সুপার গলফ—এসব প্রকল্প এই খাতে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান গন্তব্যে পরিণত হচ্ছে। আর এটি কেবল শুরু। আমরা কক্সবাজারকে ঘিরে নতুন একটি অধ্যায়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। সেখানে তৈরি হবে বিশ্বমানের একটি রিসোর্ট, যেখানে থাকবে ক্রীড়া কমপ্লেক্স, স্পোর্টস ইউনিভার্সিটি, ওয়াটার পার্ক, থিম পার্ক, সার্কাস এবং নতুন একটি সুপারগলফ। বিশ্বের অন্যতম সুন্দর সমুদ্রসৈকতকে ঘিরে গড়ে উঠবে পুরো আয়োজন। বসুন্ধরা রিসোর্টস বিশ্বের পর্যটকদের বাংলাদেশে নিয়ে আসবে।’

প্রথাগত ড্রাইভিং রেঞ্জের বদলে বসুন্ধরা সুপার গলফে থাকছে প্রযুক্তিনির্ভর ‘বে এরিয়া’; প্রথাগত কোর্সের বদলে থাকছে গলফ সিম্যুলেটর। গ্রাউন্ড ও ফার্স্ট ফ্লোর মিলিয়ে এখানে রয়েছে ৬৮টি ডিলাক্স বে। এর প্রতিটিতে একসঙ্গে ছয়জন খেলতে পারে। ফলে একা গলফ খেলার বদলে পরিবার কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে খেলতেই আড্ডা দেওয়ার সুযোগ থাকছে। খেলাধুলা ও বিনোদনকে এক জায়গায় আনার এই ভাবনা অবশ্য বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতেও দেখা গেছে। ক্রিকেট, ফুটবল, ব্যাডমিন্টন, প্যাডেল টেনিসসহ নানা ইভেন্টের পাশাপাশি সেখানে রয়েছে গোল্ডস জিম। খেলাধুলার বাইরে শরীরচর্চা ও অবসর কাটানোর সুযোগও তৈরি করেছে স্পোর্টস সিটি। এবার সেই পরিসরেই নতুন সংযোজন বসুন্ধরা সুপার গলফ, যেখানে গলফের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে খাবার, আড্ডা ও পারিবারিক বিনোদন।

খেলার পাশাপাশি খাবারের ব্যবস্থাও রয়েছে। বে থেকেই খাবার অর্ডার করা যাবে। নিচতলায় রয়েছে আরবান ক্রেভ রেস্তোরাঁ। দ্বিতীয় তলায় হেরিটেজ রেস্তোরাঁ। একই তলায় আছে স্পোর্টস লাউঞ্জ, যেখানে রয়েছে তিনটি বিলিয়ার্ড টেবিল, সঙ্গে টেরা চায়না রেস্টুরেন্ট ও ক্যাফে লিও। ফলে গলফ না খেলেও এখানে খাবার ও আড্ডার জন্য সময় কাটানো যাবে। আর একটু ব্যক্তিগত আয়োজন চাইলে রয়েছে ভিআইপি স্যুইট। মোট ১৭টি ভিআইপি সাইটের প্রতিটিতে দুটি করে বে রয়েছে। বড় পরিবার, বন্ধুমহল কিংবা করপোরেট দলের জন্য এসব সাইটে একসঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ রয়েছে।

ভিআইপি অতিথিদের জন্য রয়েছে আলাদা চেক-ইন ব্যবস্থাও। পাশাপাশি আছে নাইন্টিন হোল লাউঞ্জ রেস্টুরেন্ট, যেখানে গলফের পর খাবারের আয়োজন করা যাবে আরো বড় পরিসরে। এখানে আসার আগে গলফের সরঞ্জাম নিয়ে ভাবতে হবে না। প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দেওয়া হবে বসুন্ধরা সুপার গলফ থেকেই। অনলাইনে আগে থেকেই বুকিং করা যাবে, আবার সরাসরি এসেও রিজার্ভেশন করা যাবে।

অর্থাৎ গলফ খেলতে চাইলে সরঞ্জাম থেকে শুরু করে খাবারদাবার সবই মিলবে এক জায়গায়। আর খেলতে না নামলেও আড্ডা, খাবার কিংবা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ থাকছে। সব মিলিয়ে বসুন্ধরা সুপার গলফ যেন শুধু গলফ খেলার জায়গা নয়; বরং ঢাকার ব্যস্ত জীবনে পরিবার, বন্ধু আর প্রিয়জনদের নিয়ে কয়েক ঘণ্টা নিজের মতো করে কাটানোর নতুন ঠিকানাও।

Sara

আরও পড়ুন