বয়স জালিয়াতি, এক ক্রিকেটারের তিন জন্ম সনদ

নিউজ ডেক্স

প্রকাশ: ১৮:১৮, ২৯ জুলাই ২০২৬

বয়স জালিয়াতি, এক ক্রিকেটারের তিন জন্ম সনদ

ছবি সংগৃহীত

অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ক্রিকেট দলের নির্বাচন ক্যাম্পে আর্থিক সুবিধা নিয়ে বেশি বয়সী খেলোয়াড়দের সুযোগ করে দেওয়া। সেই সঙ্গে এক নারী ক্রিকেটারের তিনটি ভিন্ন জন্ম সনদ ব্যবহারের মাধ্যমে বয়স জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

 জুঁই তালুকদার নামের এক নারী ক্রিকেটারের আসল বয়স ২৪ বছর হলেও অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলতে তিনি বারবার জন্ম তারিখ পরিবর্তন করেছেন। প্রথম রেজিস্ট্রেশনে তাঁর জন্মসাল ২০০২ হলেও পরবর্তীতে তা কমিয়ে ২০০৪ এবং সর্বশেষ জালিয়াতির মাধ্যমে আরো কমিয়ে অনূর্ধ্ব-১৮ বা অনূর্ধ্ব-১৯-এর উপযোগী করা হয়।

২০২৬ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল গঠনের লক্ষ্যে আয়োজিত ক্যাম্পে ডাক পাওয়া ৩১ নারী ক্রিকেটারের মধ্যে অন্তত ৮ জনের বয়স চুরির প্রমাণ পাওয়া গেছে।

পারফর্ম না করেও আর্থিক সুবিধা নিয়ে স্কোয়াডে জায়গা করে দেওয়ার অভিযোগ, নারী উইংয়ের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ আব্দুল মজিদের বিরুদ্ধে। 

বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চিঠি পাঠায় বিসিবি। অনূর্ধ্ব-১৮ জোনাল নারী দল গঠনের লক্ষ্যে বিভাগীয় সিলেকশন ক্যাম্পে ক্রিকেটার ছাড়তে অনুরোধ করা হয়। সেই চিঠিতে স্পষ্ট বলা আছে, ২০০৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর কিংবা এর পরে যেসব খেলোয়াড়দের জন্ম তারাই ক্যাম্পে অংশ নিতে পারবে।

২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ৪ মার্চ, ৮ বিভাগে ক্রিকেটার নির্বাচন করা হয়। মূলত আগামী বছরের অনূর্ধ্ব-১৯ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল গঠনের জন্য বিসিবির এমন উদ্যোগ। বাছাই ক্যাম্পে সিলেট বিভাগ থেকে জায়গা পেয়েছেন সেই জুঁই তালুকদার। তার নতুন জন্ম সনদ অনুযায়ী বয়স এখন ২২। আর প্রথম জন্ম সনদ অনুযায়ী ২৪।

জুঁই ঢাকার ইন্দিরা রোড ক্রিকেট একাডেমির ক্রিকেটার। যে ক্লাবের কাউন্সিলর বিসিবির উইমেন্স উইং চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবু। ২৪ বছর বয়সী একজন ক্রিকেটার কিভাবে জায়গা পেলেন অনূর্ধ্ব-১৯ দলে?

বিসিবির উইমেন্স উইংয়ের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবু চ্যানেল 24-কে বলেছেন, ‘আমি এই ধরনের অভিযোগ এই প্রথম শুনলাম। তবে এটা উচিত নয়। আমাদের বয়সের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখতে হবে। আমি যদি বেশি বয়সের মেয়েদের অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলিয়ে কোনো সফলতা পাই তাহলে কিন্তু আমরা ওরকম ক্রেডিট আমরা নিতে পারব না।’

জুঁই তালুকদার একমাত্র ক্রিকেটার নয়। খাদিজা খাতুনের বয়সও বিসিবির মাপকাঠির চেয়ে বেশি। জন্মসনদ ও স্কুলের প্রশংসাপত্র অনুযায়ী তার বয়স ২০ বছর। সুবর্ণা কর্মকারের বয়স ২১, জন্ম ২০০৫ সালে।

৩১ ক্রিকেটারের তালিকার অন্তত আট জনের বয়স চুরির প্রমাণ এসেছে চ্যানেল 24-এর হাতে। মজার বিষয় হলো, এই নামগুলো বিসিবির ওভার এজ খেলোয়াড় তালিকায়ও আছে। উইমেন্স উইংয়ের কর্মকর্তা আব্দুল মজিদের বিরুদ্ধে আর্থিক সুবিধা নিয়ে বেশি বয়সী ক্রিকেটারদের জায়গা করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

রফিকুল ইসলাম বাবুর সঙ্গে উইমেন্স উইংয়ের কর্মকর্তা আব্দুল মজিদ

বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস রফিকুল ইসলাম বাবুর, ‘এই জিনিসটা অবশ্যই আমি খতিয়ে দেখব। যারা নির্বাচক আছেন, যারা টেকনিক্যাল কমিটিতে আছেন সবাইকে এটা অবহিত করবো এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেব।’ 

অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দলে বয়স চুরির ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে কি বিসিবি?

Sara

আরও পড়ুন