কুমিল্লা সংবাদদাতা
প্রকাশ: ২২:১৭, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ বলেছেন, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে প্রতিষ্ঠিত বর্তমান সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। তাই আগামীর বাংলাদেশ হবে সুন্দর, অধিকার ও বাকস্বাধীনতার দেশ।
শনিবার কুমিল্লা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, অর্থ, উন্নয়ন ও অগ্রগতির চূড়ান্ত হিসাব শেষ পর্যন্ত খাদ্য নিরাপত্তার মধ্যেই নিহিত। মানুষ যত অর্থ-সম্পদই অর্জন করুক না কেন, ক্ষুধা নিবারণই জীবনের মৌলিক সত্য।
তিনি বলেন, খাদ্য উৎপাদন, মৎস্য, মাংস ও ডিম উৎপাদনের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই দায়িত্ব অর্পণের পেছনে কুমিল্লার ঐতিহ্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
আমিন উর রশীদ বলেন, বাংলাদেশের আধুনিক সেচব্যবস্থাভিত্তিক কৃষি উৎপাদনের সূচনা কুমিল্লা থেকেই, যার পথিকৃৎ ছিলেন আখতার হামিদ খান। তাঁর উদ্যোগে সমবায়ভিত্তিক সেচ ও কৃষি উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হয়, যা পরবর্তীকালে সারা দেশের জন্য অনুসরণীয় মডেলে পরিণত হয়।
তিনি বলেন, কুমিল্লার সেই ঐতিহ্য ও অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে কৃষি ও খাদ্য খাতে আরও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে তিনি দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠা প্রদর্শন করবেন।
মন্ত্রী বলেন, কুমিল্লায় প্রথম রফতানিমুখী কারখানা আমিই স্থাপন করেছি। সে সময় আপনাদের উৎসাহ ও সহযোগিতা পেয়েছি। আজ কুমিল্লায় এক ধরনের শিল্প বিপ্লব ঘটেছে—অসংখ্য কারখানা গড়ে উঠেছে। এই অগ্রগতি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমার স্ব স্ব মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সঠিক ও ফলপ্রসূভাবে পরিচালনার জন্য আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। আপনারা সহযোগিতা করলে আমি আরও ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারব বলে বিশ্বাস করি।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মুঃ রেজা হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল মালিক, কুমিল্লা বিএনপি'র মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু, আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল কাইয়ুম প্রমুখ।।
পবিত্র রমজান উপলক্ষে আজ দুপুরে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে সুলভ মূল্যে দুধ, ডিম ও মাংস বিক্রয় কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ।
উদ্বোধন শেষে তিনি বিক্রয় স্টল পরিদর্শন করেন, পণ্যের মান ও মূল্য সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন, যাতে সাধারণ মানুষ রমজান মাসে ন্যায্যমূল্যে মানসম্মত খাদ্যসামগ্রী পেতে পারেন।