শিশুর আঙুল কেটে ফেলার অভিযোগ পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে

নিউজ ডেক্স

প্রকাশ: ০০:১৭, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শিশুর আঙুল কেটে ফেলার অভিযোগ পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে

ছবি সংগৃহীত

নাটোরে শিশুদের খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে আট বছর বয়সী এক শিশুর ডান হাতের আঙুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাকিল নামের এক পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নাটোর পৌরসভার হরিশপুর চেয়ারম্যান রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।

অভিযুক্ত শাকিল নাটোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে কর্মরত এবং শিশুটির পরিবারের বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকেন।

শিশুটির বাবা মো. মাহমুদুল হাসান মিলন জানান, বুধবার সন্ধ্যায় তাঁর স্ত্রী ভাড়াটিয়া পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাসায় পিকনিকের আয়োজন করেন। এ সময় দুই শিশু খেলাধুলা করতে গিয়ে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। পরে উভয় শিশুর মা বিষয়টি মীমাংসা করে দেন।

মাহমুদুল হাসানের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সকালে কনস্টেবল শাকিল তাঁর ছেলেকে ডেকে নিজের কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে শাকিলের স্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে ছুরি দিয়ে শিশুটির ডান হাতের একটি আঙুল কেটে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘আমার অবুঝ শিশুর প্রতি এমন অমানবিক আচরণ একজন বাবা হিসেবে মেনে নিতে পারছি না। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

শিশুটির পরিবারের আরও অভিযোগ, আঙুল কাটার ঘটনার পর কনস্টেবল শাকিল শিশুটির বিরুদ্ধে নাটোর পুলিশ সুপারের কাছে ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন।

তবে এ অভিযোগের বিষয়ে কোনো প্রমাণ বা মামলা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে কনস্টেবল শাকিলের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, আট বছর বয়সী কোনো শিশুর ধর্ষণের ঘটনা বা এ-সংক্রান্ত কোনো রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার বিষয়টি তাঁর জানা নেই।

নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইফতেখায়ের আলম বলেন, ‘বিষয়টি আমরা জেনেছি। অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে। প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা করছি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Sara

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন