১৪ জেলায় বন্যার শঙ্কা, বিপৎসীমার ওপরে কুশিয়ারা ও সোমেশ্বরীর পানি

নিউজ ডেক্স

প্রকাশ: ১৮:২৮, ২৩ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১৮:২৯, ২৩ জুলাই ২০২৬

১৪ জেলায় বন্যার শঙ্কা, বিপৎসীমার ওপরে কুশিয়ারা ও সোমেশ্বরীর পানি

ছবি সংগৃহীত

উজানের ঢল ও ভারি বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বাড়ছে। এরই মধ্যে কুশিয়ারা নদী সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের মারকুলি এবং সোমেশ্বরী নদী নেত্রকোনার কলমাকান্দা পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকাভুক্ত সিলেট ও সুনামগঞ্জ এবং আত্রাই অববাহিকাভুক্ত নওগাঁ জেলার কিছু এলাকায় নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। তবে সোমেশ্বরী অববাহিকাভুক্ত নেত্রকোনায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ ছাড়া সাঙ্গু ও মাতামুহুরী অববাহিকাভুক্ত বান্দরবান, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম; তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার অববাহিকাভুক্ত লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম এবং ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকাভুক্ত কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে। আগামীকাল পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থেকে পরদিন স্থিতিশীল হতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় এ অববাহিকার কয়েকটি স্থানে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

রাজশাহী বিভাগের আত্রাই নদীর পানিও গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে। আগামীকাল পর্যন্ত পানি আরও বাড়তে পারে এবং পরদিন কমতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় নওগাঁ জেলার কয়েকটি স্থানে আত্রাই নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।

এদিকে চট্টগ্রাম বিভাগের মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাজু ও মাতামুহুরী নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় কমেছে। তবে আগামীকাল এসব নদীর পানি আবার বাড়তে পারে। বান্দরবান, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি কোথাও কোথাও সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উত্তরাঞ্চলের তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় কমলেও ধরলা নদীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের কিছু এলাকায় এসব নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।

অন্যদিকে, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি স্থিতিশীল থাকলেও যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মার পানি বেড়েছে। আগামী দুই দিন ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি বাড়তে পারে। একই সময়ে গঙ্গা-পদ্মার পানি আগামী পাঁচ দিন পর্যন্ত বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে সাময়িক প্লাবন দেখা দিতে পারে।

Sara

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন