নিউজ ডেক্স
প্রকাশ: ২১:১৮, ২০ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ২১:১৯, ২০ জুলাই ২০২৬
ছবি সংগৃহীত
দেশের তৃতীয় বৃহত্তর বনভূমি মধুপুর গড়। এ বনের ভেতর দিয়ে চলে গেছে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়ক। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ছোট-বড় যানবাহন চলাচল করে। বনের প্রাণীরা তাদের আবাসস্থল ও খাদ্যের সন্ধানে সড়ক পারাপার হয়। সড়ক পার হতে গিয়ে যানবাহনের চাকায় পিষ্ট হয়ে শুধু আহতই নয়, প্রাণও হারাতে হয়। এমন পরিস্থিতি দেখে বন বিভাগ তাদের শালবন পুনরুদ্ধার প্রকল্পের মাধ্যমে বানর ও হনুমান যাতে নিরাপদে সড়ক পার হতে পারে, সে জন্য বনের কয়েকটি স্থানে ৫টি রোপওয়ে বা উড়াল সেতু নির্মাণ করেছে।
বন বিভাগ মনে করছে, রোপওয়ে নির্মাণের ফলে বন্যপ্রাণী নিরাপদে সড়ক পারাপার করতে পারবে এবং আহত বা নিহত হওয়ার ঘটনাও কমে আসবে। গাছের সঙ্গে বিশেষভাবে স্থাপন করা এসব রোপওয়ে ব্যবহার করে বানর, হনুমানসহ গাছে বসবাসকারী প্রাণীরা এখন নিরাপদে মহাসড়ক পার হতে পারছে।
বন বিভাগ জানায়, টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়ক মধুপুরের বনাঞ্চলের মধ্য দিয়ে চলে গেছে। খাদ্যের সন্ধানে এক পাশ থেকে অন্য পাশে যেতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনায় বানর, হনুমান, মেছোবিড়াল, গন্ধগোকুলসহ বিভিন্ন প্রাণী মারা যায়। এ পরিস্থিতি কমাতে মধুপুর জাতীয় উদ্যান সদর রেঞ্জ এলাকায় টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাঁচটি স্থানে রোপওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টাই যানবাহন চলাচল করে। বনের এখানে পর্যটক ও পথচারীদের দেওয়া খাবারের আশায় প্রায়ই বানর-হনুমান মহাসড়কে নেমে আসে। এতে প্রায়ই বন্যপ্রাণীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এখন থেকে রোপওয়ের ব্যবহার বাড়লে এ ধরনের মৃত্যু কমবে বলে তারা মনে করছেন।
জানা যায়, একসময় প্রায় ৬২ হাজার একরজুড়ে বিস্তৃত মধুপুর বনাঞ্চলের বড় একটি অংশ ইতোমধ্যে উজাড় হয়ে গেছে। বন উজাড়, আবাসস্থল সংকুচিত হওয়া এবং খাদ্যসংকটের কারণে বহু বন্যপ্রাণী অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, রোপওয়ে নির্মাণের পাশাপাশি বন সংরক্ষণ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে মধুপুরের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
টাঙ্গাইল বাস মিনিবাস মালিক সমিতির আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম বলেন, এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা যানবাহন চলাচল করে। বনের এখানে পর্যটক ও পথচারীদের দেওয়া খাবারের আশায় প্রায়ই বানর-হনুমান মহাসড়কে নেমে আসে। এতে হঠাৎ দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এখন থেকে রোপওয়ের ব্যবহার বাড়লে এ ধরনের মৃত্যু কমবে বলে আশা করি।
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. এস. এম. সাইফুল্লাহ বলেন, মধুপুর বনাঞ্চলের দুর্লভ মুখপোড়া হনুমান উঁচু গাছে বিচরণ করে এবং খাদ্যের সন্ধানে এক গাছ থেকে অন্য গাছে চলাচল করে। বনাঞ্চলের মধ্য দিয়ে থাকা উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুৎ লাইন তাদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। নিরাপদ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে প্রাণীদের মৃত্যু কমবে এবং প্রজননও স্বাভাবিক থাকবে। পরিবেশও ভালো থাকবে।
সহকারী বন সংরক্ষক রানা দেব বলেন, রোপওয়ে সড়ক দুর্ঘটনা কমানোর পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর অবাধ চলাচল, আবাসস্থলের বিভাজন রোধ এবং প্রজননে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এছাড়া আমরা রোপওয়েগুলো বৈদ্যুতিক লাইন থেকে যথেষ্ট দূরে রাখার চেষ্টা করেছি। আশা করি পশুপাখিদের কোনো সমস্যা হবে না।