আয়শা আক্তার
প্রকাশ: ২০:০৭, ৯ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১৭:২৮, ২২ জুন ২০২৬
ছবি:মো. জাকির আনাম, ডিএমডি এনসিসি ব্যাংক
বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং টেকসই অর্থায়নের ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষাপটে ব্যাংক খাতে তৈরি হয়েছে নতুন চ্যালেঞ্জ এমন বাস্তবতায় করপোরেট ও গার্মেন্ট খাতে ঋণ সম্প্রসারণ, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই অর্থায়ন বৃদ্ধি এবং শিল্প বিনিয়গে গতি ফেরাতে নানা পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে এনসিসি ব্যাংক। এসব নিয়ে বাংলাদেশ টেলিগ্রামের নির্বাহী সম্পাদক আয়শা আক্তারের সঙ্গে কথা বলেছেন এনসিসি ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) মো. জাকির আনাম।
বাংলাদেশ টেলিগ্রাম : করপোরেট ও গার্মেন্ট খাতে ঋণ ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়ার পেছনে মূল কারণ কী?
জাকির আনাম: বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হলো করপোরেট ও রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্প। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ আসে গার্মেন্ট খাত থেকে। একই সঙ্গে বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই এসব খাত আরও শক্তিশালী করতে আমরা ঋণ ও বিনিয়োগ কার্যক্রম সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতির টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখা।
বাংলাদেশ টেলিগ্রাম : এ খাতগুলোর জন্য কী ধরনের নতুন আর্থিক সুবিধা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে?
জাকির আনাম: আমরা বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান, রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান এবং তাদের সরবরাহ চেইনের (সাপ্লাই চেইন) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসাগুলোর জন্য বিশেষায়িত ঋণসুবিধা চালুর উদ্যোগ নিয়েছি এর মধ্যে রয়েছে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ফাইন্যান্সিং, ট্রেড ফাইন্যান্স, সাপ্লাই চেইন ফাইন্যান্সিং এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ঋণ। এছাড়া রপ্তানিকারকদের জন্য দ্রুত এলসি (এলসি) নিষ্পত্তি, বৈদেশিক লেনদেন সহজীকরণ এবং ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবার সম্প্রসারণেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ টেলিগ্রাম: বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি এসএমই খাতের জন্যও কি কোনো পরিকল্পনা রয়েছে?
জাকির আনাম: অবশ্যই। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এসএমই খাতের জন্য নতুন অর্থায়ন সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করেছি। বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তা, তরুণ উদ্যোক্তা এবং উৎপাদনমুখী ক্ষুদ্র শিল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সহজ শর্তে ঋণ, দ্রুত অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং ব্যবসায়িক পরামর্শ সেবার মাধ্যমে আমরা এই খাতকে আরও এগিয়ে নিতে চাই।
বাংলাদেশ টেলিগ্রাম: সম্প্রতি আয়োজিত বার্ষিক ব্যবসায়িক সম্মেলনে কোন বিষয়গুলো সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে?
জাকির আনাম: সম্মেলনে মূলত তিনটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি অর্জন, গ্রাহকসেবা উন্নয়ন এবং উৎপাদনমুখী খাতে অর্থায়ন বৃদ্ধি। আমরা বিশ্বাস করি, একটি ব্যাংকের সফলতা শুধু আর্থিক সূচকের ওপর নির্ভর করে না; বরং গ্রাহকের আস্থা এবং অর্থনীতিতে তার অবদানের ওপরও নির্ভর করে। তাই প্রযুক্তিনির্ভর সেবা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং গ্রাহককেন্দ্রিক ব্যাংকিংয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ টেলিগ্রাম: গার্মেন্ট খাতকে কেন এত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে?
জাকির আনাম: গার্মেন্ট শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি। এ খাত দেশের কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রেও এর অবদান অনন্য। বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে হলে এ শিল্পে প্রযুক্তি উন্নয়ন, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং টেকসই কারখানা স্থাপনে বিনিয়োগ প্রয়োজন,ব্যাংক হিসেবে আমরা সেই অর্থায়ন সহযোগিতা দিতে চাই, যাতে উদ্যোক্তারা আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে পারেন।
বাংলাদেশ টেলিগ্রাম: বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্যাংক খাতের জন্য কী ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে?
জাকির আনাম: বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, মূল্যস্ফীতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি ব্যাংক খাতের জন্য কিছু তৈরি চ্যালেঞ্জ করেছে। তবে বাংলাদেশ এখনো শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ধরে রেখেছে। আমাদের দায়িত্ব হলো সঠিক খাতে অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী করা। আমরা বিশ্বাস করি, সুশাসন ও কার্যকর ঋণ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব।
বাংলাদেশ টেলিগ্রাম: প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংক সেবা নিয়ে এনসিসি ব্যাংকের পরিকল্পনা কী?
জাকির আনাম: বর্তমান সময়ে প্রযুক্তি ছাড়া ব্যাংকিং কার্যক্রম কল্পনাই করা যায় না। আমরা ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবাকে আরও আধুনিক ও গ্রাহকবান্ধব করার লক্ষ্যে কাজ করছি, অনলাইন ঋণ আবেদন, দ্রুত অনুমোদন, মোবাইল ব্যাংকিং সেবা উন্নয়ন এবং করপোরেট গ্রাহকদের জন্য ডিজিটাল ট্রানজেকশন প্ল্যাটফর্ম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা সেবার গতি ও স্বচ্ছতা বাড়াতে চাই।
বাংলাদেশ টেলিগ্রাম: সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন উদ্যোগকে কীভাবে দেখছেন?
জাকির আনাম: ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফেরাতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলোকে আমরা অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে দেখছি। সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি আনার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। বিশেষ করে উৎপাদনমুখী খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান আবার চালুর উদ্যোগ অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ব্যবসায়িক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং ব্যাংকিং খাতও এর সুফল পাবে।
বাংলাদেশটেলিগ্রাম: বন্ধ কারখানার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘোষিত ২০ হাজার কোটি টাকার নতুন স্কিমকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করছে?
জাকির আনাম: এটি একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। দীর্ঘদিন বন্ধ বা সংকটে থাকা শিল্প ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবার সচল করতে এই তহবিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে বৃহৎ শিল্প ও রপ্তানিমুখী খাতগুলো এই সুবিধার মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি আয় বাড়াতে সক্ষম হবে। আমরা আশা করি, এ ধরনের উদ্যোগ দেশের শিল্পখাতকে নতুন করে প্রাণ ফিরিয়ে দেবে।
বাংলাদেশটেলিগ্রাম: এনসিসি ব্যাংক কীভাবে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করবে?
জাকির আনাম: ঋণ সম্প্রসারণের পাশাপাশি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাও আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। আমরা গ্রাহকের আর্থিক সক্ষমতা, ব্যবসায়িক সম্ভাবনা এবং বাজার পরিস্থিতি (বিশ্লেষণ) করে ঋণ অনুমোদন করি। একই সঙ্গে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর মূল্যায়ন ব্যবস্থা ব্যবহার করে ঋণের গুণগত মান নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।
বাংলাদেশ টেলিগ্রাম: বাংলাদেশ ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বের হতে যাচ্ছে, তবে ডব্লিউটিও’র নিয়ম অনুযায়ী আরও তিন বছরের রেয়াত সুবিধা পাওয়া গেছে। এই উত্তরণকালীন সময়ে দেশের রপ্তানি বাণিজ্য পরিবেশ ধরে রাখতে এনসিসি ব্যাংক করপোরেট গ্রাহকদের কীভাবে সহায়তা করবে?
জাকির আনাম: এলডিসি থেকে উত্তরণ আমাদের জন্য যেমন গর্বের, তেমনি একটি বড় পরীক্ষা। শুল্কমুক্ত সুবিধা বা প্রেফারেনশিয়াল মার্কেট অ্যাক্সেস কমে এলে আমাদের মূল অস্ত্র হবে ‘প্রতিযোগিতা সক্ষমতা’ এবং ‘দক্ষতা’। যে তিন বছরের অতিরিক্ত সময় আমরা পেয়েছি, একে আমাদের অবকাঠামোগত ও প্রযুক্তিগত রূপান্তরের গোল্ডেন পিরিয়ড হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। এনসিসি ব্যাংক আমাদের রপ্তানিকারকদের আধুনিকায়নে অর্থায়ন করবে, যাতে উৎপাদন খরচ কমানো যায়। আমরা হেজিং এবং অন্যান্য ফরেক্স ট্রেড ফাইন্যান্সিং টুলস সহজ করছি, যাতে বৈশ্বিক বাজারে মুদ্রার ওঠানামার ঝুঁকি থেকে আমাদের ব্যবসায়ীরা সুরক্ষিত থাকেন।
বাংলাদেশ টেলিগ্রাম: আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে হলে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পের শক্তিশালীকরণ কতটা জরুরি এবং এখানে আপনাদের অর্থায়নের ভূমিকা কী?
জাকির আনাম: ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ এবং আমদানি বিকল্প শিল্প হচ্ছে আমাদের রপ্তানি খাতের মূল মেরুদণ্ড। আমরা যদি কাঁচামাল, সুতা বা এক্সেসরিজের জন্য পুরোপুরি আমদানির ওপর নির্ভরশীল থাকি, তবে লিড টাইম বেড়ে যায় এবং দেশের মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা বাইরে চলে যায়। এই বাস্তবতায় এনসিসি ব্যাংক অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে নতুন ৫৪টি রপ্তানিমুখী ও আমদানি বিকল্প শিল্প প্রতিষ্ঠানে অর্থায়ন করেছি। এই শিল্পগুলো স্থানীয়ভাবে কাঁচামাল ও মধ্যবর্তী পণ্য উৎপাদন করছে, যা আমাদের সামগ্রিক আমদানি দায় পরিশোধে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ ও নির্ভরতা অনেকাংশে কমিয়ে আনছে।
বাংলাদেশ টেলিগ্রাম: প্রথাগত সুতির বাইরে এখন বৈশ্বিক ফ্যাশনে ম্যান-মেড ফাইবার বা সিন্থেটিক কাপড়ের চাহিদা বাড়ছে। এ খাতে এনসিসি ব্যাংকের বিনিয়োগ পরিকল্পনা কী?
জাকির আনাম: এটি অত্যন্ত চমৎকার একটি পয়েন্ট। বিশ্ববাজারে এখন তৈরি পোশাকের চাহিদার ৭০ শতাংশের বেশি ম্যান-মেড ফাইবার (যেমন পলিয়েস্টার, নাইলন, স্প্যানডেক্স) এর দখলে, অথচ আমাদের রপ্তানি এখনো প্রধানত কটন-ভিত্তিক পণ্যে সীমাবদ্ধ। এনসিসি ব্যাংক এই বৈচিত্র্যকরণকে উৎসাহিত করতে চায়। যারা এমএমএফ বা ব্লেন্ডেড ইয়ার্ন উৎপাদনে নতুন প্রজেক্ট করছেন, তাদের জন্য আমরা বিশেষায়িত ফাইন্যান্সিং প্যাকেজ রাখছি। কটন থেকে সিন্থেটিক ফাইবারে স্থানান্তরের জন্য যে উচ্চ প্রযুক্তির স্পিনিং ও ওয়েভিং মেশিনারিজ প্রয়োজন, তাতে এনসিসি ব্যাংক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অর্থায়ন করছে।
বাংলাদেশ টেলিগ্রাম: শুধু তৈরি পোশাক নয়, রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে চামড়াজাত পণ্য ও জুতো এবং পাট রপ্তানি খাতের সম্ভাবনা নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?
জাকির আনাম: একক খাতের ওপর নির্ভরতা যেকোনো অর্থনীতির জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা চামড়াজাত পণ্য, জুতো এবং পাটজাত পণ্যের বহুমুখীকরণকে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় মনে করি। চামড়া ও জুতাশিল্পে আমাদের আন্তর্জাতিক মানের কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে ইটিপি স্থাপনসহ গ্রিন ফ্যাক্টরি তৈরিতে আমরা সহজ শর্তে ঋণ দিচ্ছি। অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব ও বৈচিত্র্যময় পাটজাত পণ্য (যেমন পাটের ব্যাগ, জিও-টেক্সটাইল) বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমাদৃত হচ্ছে। এই নন-ট্র্যাডিশনাল রপ্তানি খাতগুলোকে মূল ধারায় আনতে আমরা জামানতবিহীন এবং স্বল্প সুদের ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছি।
বাংলাদেশ টেলিগ্রাম: বর্তমানে বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলো ‘সবুজ উৎপাদন’ বা গ্রিন ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের ওপর জোর দিচ্ছে। টেক্সটাইল ও প্লাস্টিক খাতে নবায়নযোগ্য শক্তি এবং সার্কুলার ইকোনমি বাস্তবায়নে এনসিসি ব্যাংক কী ধরনের ভূমিকা রাখছে?
জাকির আনাম: টেকসই ব্যাংকিং এখন আমাদের নীতিমালার অন্যতম প্রধান অংশ। বৈশ্বিক বাণিজ্যের নতুন শর্তই হচ্ছে পরিবেশবান্ধব উৎপাদন। এনসিসি ব্যাংক টেক্সটাইল এবং প্লাস্টিক কারখানায় ‘রুফটপ সোলার প্যানেল’ এবং শক্তিসাশ্রয়ী প্রযুক্তি স্থাপনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রিন রিফাইন্যান্স স্কিমের আওতায় কম সুদে অর্থায়ন করছে।
একই সঙ্গে রিসাইক্লিং বা ‘সার্কুলার ইকোনমি’র ধারণাকে আমরা ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করছি। প্লাস্টিক বর্জ্য পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ প্ল্যান্ট কিংবা টেক্সটাইলের ঝুট কাপড় রিসাইকেল করে আবার সুতা তৈরির প্রকল্পে আমাদের বিশেষ গ্রিন ফান্ডিং সুবিধা রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, পরিবেশ রক্ষা এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি একই সুতোয় গাঁথা।
বাংলাদেশ টেলিগ্রাম: আগামী কয়েক বছরে এনসিসি ব্যাংকের লক্ষ্য কী?
জাকির আনাম: আমাদের লক্ষ্য হলো দেশের অন্যতম শীর্ষ করপোরেট ও এসএমই ব্যাংক হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করা। আমরা উৎপাদনমুখী শিল্প, রপ্তানি খাত, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং উদ্যোক্তা বিকাশে অর্থায়ন বাড়াতে চাই। পাশাপাশি ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে গ্রাহকদের জন্য আরও আধুনিক ও সহজ ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করব।
বাংলাদেশ টেলিগ্রাম: দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের জন্য আপনার বার্তা কী?
জাকির আনাম: বাংলাদেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলোকে সুযোগে পরিণত করতে হবে। উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী চিন্তা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে। এনসিসি ব্যাংক সবসময় তাদের পাশে থাকতে প্রস্তুত। আমরা বিশ্বাস করি, ব্যাংক ও উদ্যোক্তাদের যৌথ প্রচেষ্টায় দেশের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও বেগবান হবে।
বাংলাদেশ টেলিগ্রাম: আপনাকে ধন্যবাদ।
জাকির আনাম: বাংলাদেশ টেলিগ্রাম ও তার পাঠকদের ধন্যবাদ।