নিউজ ডেক্স
প্রকাশ: ১৭:৪৪, ২৪ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১৭:৪৫, ২৪ জুন ২০২৬
ছবি সংগৃহীত
গ্রাহকদের জন্য সার্বক্ষণিক বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বিশেষ হটলাইন চালু করেছে ওয়ালটন প্লাজা। একই সঙ্গে দেশের ৭ শতাধিক ওয়ালটন প্লাজায় দিনব্যাপী মেডিক্যাল ক্যাম্প আয়োজনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ফ্রি চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন ২০২৬) দেশজুড়ে একযোগে আয়োজিত এ মেডিক্যাল ক্যাম্পে ওয়ালটন প্লাজার গ্রাহকদের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।
রাজধানীর মিরপুর মাজার রোডস্থ ওয়ালটন প্লাজায় ফিতা কেটে মেডিক্যাল ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন ওয়ালটন প্লাজার ম্যানেজিং পার্টনার এস এম মাহবুবুল আলম। এ সময় তিনি ওয়ালটন প্লাজার ‘হ্যাপিনেস অ্যান্ড হেলথ কেয়ার’ প্রকল্পের আওতায় গ্রাহকদের জন্য চালু হওয়া বিশেষ হটলাইন নম্বর ০৯৬০৬-৯৯০০২৯ উদ্বোধন করেন। নতুন এ হটলাইনে কল করে ওয়ালটন প্লাজার গ্রাহকরা বিনামূল্যে চিকিৎসা পরামর্শ ও সেবা নিতে পারবেন।
মেডিক্যাল ক্যাম্পে রোগীদের ব্যবস্থাপত্র প্রদান ও প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে রক্তদান কর্মসূচিরও আয়োজন করা হয়। সংগৃহীত রক্ত থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবায় ব্যবহার করা হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এস এম মাহবুবুল আলম বলেন, “দেশজুড়ে ওয়ালটন প্লাজাগুলোতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে দিনব্যাপী বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। ‘কিস্তি ক্রেতা সুরক্ষা পলিসি’সহ বিভিন্ন গ্রাহকবান্ধব কর্মসূচির মাধ্যমে সারা বছরই ক্রেতাদের জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এটি আমাদের দায়িত্বশীলতা ও গ্রাহকদের প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।”
তিনি আরও বলেন, “ওয়ালটনের এসব উদ্যোগ দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকেও সাধারণ মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন প্লাজার ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ রায়হান, ওয়ালটন হাই-টেকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মফিজুর রহমান, চিফ মার্কেটিং অফিসার জোহেব আহমেদ, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর তানভীর আঞ্জুম, ওয়ালটন প্লাজার হেড অব এইচআর মো. ফয়সাল ওয়াহিদ এবং চিফ সেলস এক্সিকিউটিভ এম এম নাজমুল হাসান। এছাড়া অনলাইনে যুক্ত ছিলেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ওয়ালটন প্লাজার প্রতিনিধিরা।
ওয়ালটন প্লাজার এমডি মোহাম্মদ রায়হান বলেন, “ওয়ালটন প্লাজা শুধু পণ্য বিক্রির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করে তাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখছে। এ কারণেই ওয়ালটন প্লাজা জনমানুষের আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।”
তিনি জানান, বিশ্বের মধ্যে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে ওয়ালটন প্লাজা ‘কিস্তি ক্রেতা ও পরিবার সুরক্ষা নীতি’ পরিচালনা করছে। এ নীতির আওতায় কিস্তিতে পণ্য ক্রয়কারীদের সুরক্ষা কার্ড প্রদান করা হয়। কিস্তি চলাকালে কার্ডধারীর মৃত্যু হলে পণ্যমূল্যের ভিত্তিতে ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা এবং পরিবারের কোনো সদস্য মারা গেলে ২৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। অনাদায়ী কিস্তি সমন্বয়ের পর অবশিষ্ট অর্থ সংশ্লিষ্ট পরিবারকে প্রদান করা হয়। পাশাপাশি যোগ্য পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি করা হয়।
ওয়ালটন প্লাজা সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় দেড় হাজারের বেশি কিস্তি ক্রেতা ও তাদের পরিবারকে ৩ কোটিরও বেশি টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ বকেয়া কিস্তির অর্থও মওকুফ করা হয়েছে। বর্তমানে আরও বেশ কয়েকটি পরিবার আর্থিক সহায়তা পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
উল্লেখ্য, কিস্তি গ্রাহকদের উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে ওয়ালটন প্লাজা বিভিন্ন হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, জীবনবীমা প্রতিষ্ঠান ও রেস্তোরাঁর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে সুরক্ষা কার্ডধারীরা বিশেষ সেবা ও মূল্যছাড় সুবিধা পাচ্ছেন। এছাড়া প্রতিটি ওয়ালটন প্লাজায় সারা বছর গ্রাহকদের চিকিৎসা সহায়তা দিতে নিয়োজিত রয়েছেন ‘হ্যাপিনেস অ্যান্ড হেলথ অফিসার’। বিশেষ বিবেচনায় সুরক্ষা কার্ডধারীদের জন্য বিদেশ ভ্রমণের সুযোগও রাখা হয়েছে।