এইচএসসি পরীক্ষা পেছানো হয়নি কেন, ব্যাখ্যা দিলেন শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৩:০৬, ১৪ জুলাই ২০২৬

এইচএসসি পরীক্ষা পেছানো হয়নি কেন, ব্যাখ্যা দিলেন শিক্ষামন্ত্রী

ছবি সংগৃহীত

এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত না করে যথাসময়ে আয়োজনের সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত ও আবহাওয়া পরিস্থিতি পর্যালোচনার ভিত্তিতেই নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, পরীক্ষার আগের দিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের ইতিবাচক পূর্বাভাসের পরই পরীক্ষা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে তিনি পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্তের পক্ষে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।

প্রশ্নোত্তর পর্বে রুমিন ফারহানা বলেন, টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা এইচএসসি পরীক্ষা এক বা দুই দিন পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু সে দাবি আমলে নেওয়া হয়নি, যার ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও আন্দোলনের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি জানতে চান, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষা কয়েক দিনের জন্য পিছিয়ে দিতে সরকারের কী সমস্যা ছিল।

জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এইচএসসি পরীক্ষা সারা দেশে একযোগে অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ২ হাজার ৭০০টি কেন্দ্রে ৬৪ জেলার লাখো পরীক্ষার্থী একই সময়ে পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাই যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিতে হয়।

তিনি বলেন, "যেখানে প্রকৃত সংকট তৈরি হয়েছে, সেখানে আমরা পরীক্ষা স্থগিত করেছি। বন্যা পরিস্থিতির কারণে পর্যায়ক্রমে রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং পরে পুরো চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।"

শিক্ষামন্ত্রী জানান, পরীক্ষা বহাল রাখার আগে দেশের ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার, আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে যোগাযোগ করা হয়।

"বিকেল ৫টা পর্যন্ত আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছি। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছিল, আর বৃষ্টিপাত হবে না। সংশ্লিষ্ট সবাইও জানিয়েছেন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই আমরা পরীক্ষা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি," বলেন তিনি।

তবে পরীক্ষার দিন সকালে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের মাঠ পানিতে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। শিক্ষামন্ত্রী জানান, বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, "মেয়র, জেলা প্রশাসক, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে পরীক্ষার্থীদের নৌকায় করে নিরাপদ ভবনে নেওয়া হয় এবং কলেজের পাঁচতলা ভবনে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পুরো বিষয়টি আমরা সার্বক্ষণিক তদারকি করেছি।"

মন্ত্রী আরও জানান, ওই কেন্দ্রে এক পরীক্ষার্থীর পোশাক ভিজে যাওয়ায় তার বাড়ি থেকে নতুন পোশাক এনে দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাকে এক ঘণ্টা দেরিতে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ এবং অতিরিক্ত সময়ও দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, কুমিল্লার ওই কেন্দ্র ছাড়া দেশের অন্য কোথাও দুর্যোগের কারণে পরীক্ষা গ্রহণে বড় ধরনের কোনো সমস্যা হয়নি বলে জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

স্থানীয় প্রশাসনের ক্ষমতার বিষয়টি তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনে জেলা প্রশাসক, ইউএনও বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো কেন্দ্রে পরীক্ষা স্থানান্তর কিংবা স্থগিতের সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে নিতে পারেন।

সবশেষে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, "কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কষ্ট আমরা বুঝি। তাদের ভবিষ্যৎ নিয়েই আমাদের দায়িত্ব। সে কারণেই প্রতিটি সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি আমরা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রেখেছি।"

Sara

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন