নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৩:০৮, ১৯ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ২৩:১৩, ১৯ জুলাই ২০২৬
ছবি সংগৃহীত
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের রাজধানীর গুলশানের একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিলাসবহুল সামগ্রী উদ্ধার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আদালতের নির্দেশে পরিচালিত এ অভিযানে ৩০০টির বেশি কোট, ৫৩২টির বেশি টাই, রোলেক্স ঘড়িসহ মূল্যবান বিভিন্ন সামগ্রীর তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দুদকের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল গুলশানের ওই ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে ইনভেন্টরি বা সম্পদের তালিকা তৈরির কার্যক্রম শুরু করে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে ফ্ল্যাট থেকে ৩০০টির বেশি কোট, ৫৩২টির বেশি টাই, ৮টি ঘড়ির বক্স (যার মধ্যে ৪টি রোলেক্স ব্র্যান্ডের), ৩ সেট মুক্তার (পার্ল) গয়না, ৪টি ঝাড়বাতি, একটি বেড, একটি সোফা এবং প্রায় ১০০টি কামিজ উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া রোলেক্স ঘড়িগুলোর ক্রয় রসিদও পাওয়া গেছে। রসিদ অনুযায়ী, প্রতিটি ঘড়ির দাম ১৪ হাজার থেকে ১৭ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলারের মধ্যে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম জানান, আদালতের আদেশ অনুযায়ী ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে সম্পদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। বিপুল পরিমাণ সামগ্রী থাকায় একদিনে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। সোমবারও ইনভেন্টরির কার্যক্রম চলবে।
দুদক জানিয়েছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করা হয়। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এর আগে গত ২ জুলাই দুদকের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী গুলশানের দুটি ফ্ল্যাটের সঠিক নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা, তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দুদক গ্রহণ করবে।
ফ্ল্যাট দুটি রাজধানীর গুলশান এলাকার রোড-৬৬, ব্লক নর্থওয়েস্ট (বি), প্লট-১১-এ অবস্থিত। এর মধ্যে এ-৭ নম্বর ফ্ল্যাটের আয়তন ৩ হাজার ৭৪৭ বর্গফুট এবং বি-৭ নম্বর ফ্ল্যাটের আয়তন ৩ হাজার ৮৩২ বর্গফুট। আদালত দুদকের পরিচালক (সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিট)-কে এসব সম্পদের রিসিভার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।
ফ্ল্যাটে প্রবেশ ও সম্পদের তালিকা তৈরির সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন গুলশান রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নিলয় রহমান।
এর আগে চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাজ্যে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর নামে থাকা ৫১৮টি ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট ক্রোকের নির্দেশ দেন আদালত। এছাড়া ১৩ জানুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আটটি দেশে তার মালিকানাধীন বাড়ি, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দ এবং যুক্তরাষ্ট্রে তার নামে থাকা দুটি কোম্পানিতে বিনিয়োগ অবরুদ্ধ করারও আদেশ দেওয়া হয়। এসব সম্পদ ও বিনিয়োগের আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ হাজার ৩২০ কোটি ৯২ লাখ টাকা।
উল্লেখ্য, সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ভূমি প্রতিমন্ত্রী এবং ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ভূমিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে সম্পদের বৈধতা, অর্থপাচার ও দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে তদন্ত ও আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।