স্থানীয় নির্বাচনে আ.লীগের অংশগ্রহণ বন্ধে ইসিকে জামায়াতের প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৮:৪২, ১৯ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১৮:৪২, ১৯ জুলাই ২০২৬

স্থানীয় নির্বাচনে আ.লীগের অংশগ্রহণ বন্ধে ইসিকে জামায়াতের প্রস্তাব

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কোনো পর্যায়ের পদধারী ও সক্রিয় নেতা-কর্মীদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বন্ধ করতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সরকারের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার বিধান নির্বাচনী আচরণবিধিতে সংযোজনের আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রস্তাবিত আচরণবিধিতে এ বিধান অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেয় জামায়াত।

দলটির প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, সরকারের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা কোনো রাজনৈতিক দলের কোনো পর্যায়ের নেতা বা কর্মীর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করা হয়েছে।

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দল ও এর নেতাদের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলে সরকার জানায়। পরে নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন স্থগিত করলে আওয়ামী লীগ গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি।

সরকার আগামী অক্টোবর থেকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছে। নির্দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিতব্য এসব নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতারা অংশ নিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকার এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। নির্বাচন কমিশনও জানিয়েছে, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

চিঠিতে জামায়াত আরও কয়েকটি সংশোধনী প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নির্বাচনী প্রচারে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করার বিধান আরও স্পষ্ট করা, স্থানীয় সরকার প্রশাসনে নিয়োজিত প্রশাসক ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা, নির্বাচনী প্রচারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের জন্য পৃথক নীতিমালা প্রণয়ন এবং প্রার্থিতা বাতিলের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ নিশ্চিত করা।

এ ছাড়া নির্বাচনী ক্যাম্পে এলইডি ডিসপ্লে, প্রজেক্টর ও ল্যাপটপ ব্যবহারের বিষয়ে সুস্পষ্ট বিধান প্রণয়ন, ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহের অধিকার নিশ্চিত করা, ইউনিয়ন পরিষদে সংরক্ষিত নারী সদস্যপদ বাতিল করে প্রতিটি ওয়ার্ডে সরাসরি নারী সদস্য নির্বাচনের ব্যবস্থা এবং জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচনের ভোটার নির্ধারণের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করার সুপারিশও করেছে দলটি।

Sara

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন